বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

ঝিনাইদহ পৌরসভা কার্যালয়, ঝিনাইদহ 

বাজেট বক্ততা ২০১৯-২০

 

        সম্মানীত জেলা প্রশাসক মহোদয়, উপস্থিত আমন্ত্রিত সুধীবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রোনিক্স মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ, আমার সহকর্মী পৌর কাউন্সিলরবৃন্দ,পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং উপস্থিত সম্মানীত সকল নাগরিকবৃন্দ সবাইকে আমার সালাম ও শুভেচ্ছা। আামি এখন ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের বাজেট আনুষ্ঠানিকভাবে আপনাদের সামনে ঘোষণা করছি।

   প্রিয় সুধীবৃন্দ

      আমি আমার ৯ম বাজেট উপস্থাপনার শুরুতেই হাজার হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বধীন হয়েছিল। সেই মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। আমি শ্রদ্ধাভরে আরও স্মরণ করছি যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সফল প্রধানমন্ত্রী যিনি বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত করেছেন  জননেত্রী শেখ হাসিনা এমপিকে।  

 

       ১১-০৩-১৯৫৮ সালে ঝিনাইদহ পৌরসভার জন্ম। দক্ষিণ বঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসাবে খ্যাত ঝিনাইদহ পীর আওলিয়া, খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিক, বিপ্লবী ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাস ভূমি হিসেবে পরিচিত দেশের একটি প্রাচীন শহর- ঝিনাইদহ। অনেক জ্ঞানী-গুনি, সম্মানিত নাগরিকবৃন্দ এই পৌরসভার প্রশাসক, চেয়ারম্যান ও মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমি তাদের অবদান ও শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করছি।

সম্মানীত নাগরিকবৃন্দ

 

পৌরসভা একটি সংবিধিবদ্ধ স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫২/১ অনুচ্ছেদ মোতাবেক সরকার দেশের পৌরসভা সমূহকে স্থানীয় সরকার পৌরসভা আইন ২০০৯ এ একটি প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রশাসনিক ইউনিট ঘোষণা করা হলেও প্রকৃত পক্ষে প্রশাসনিক ইউনিট এর কোন অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সুবিধা এখনও দৃশ্যমান হয়নি। প্রতিবছর প্রায় ৬ কোটি টাকার উর্দ্ধে অত্র পৌরসভা জনবলের বেতন-ভাতা ও অবসর সুবিধাসহ সকল ব্যয় প্রদান করতে হয় নিজেস্ব আয় থেকে। সরকারি নতুন পে-স্কেল দেশের ৯০% ভাগ পৌরসভা বাস্তবায়ন করতে পারে নাই। বর্তমানে যে কয়টি পৌরসভা নতুন পে-স্কেলে বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে সক্ষম হচ্ছে ঝিনাইদহ পৌরসভা তার মধ্যে অন্যতম। ইতি মধ্যে অত্র পৌরসভা পেনশন প্রথা চালু করতে যাচ্ছে। যেটা হবে বাংলাদেশের মধ্যে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। নতুন করে সরকার যদি পুনরায় পে-স্কেল ঘোষণা করে তাহলে ঝিনাইদহ পৌরসভা ব্যাতিত দেশের অন্য কোন পৌরসভার পক্ষেই বেতন-ভাতা পরিশোধ করা সম্ভব হবে না বলে আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি।

প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ

 

সরকার প্রতি বছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী বা এডিপি খাতে ৭০-৮০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ প্রদান করে। সরকারী এ বরাদ্দ পৌরসভার শ্রেণী অনুসারে জেলা শহর ও উপজেলা শহরের জন্য সমান। এখানে জনসংখ্য বা আয়তন বিবেচনায় নেওয়া হয় না। পৌরসভার বিদ্যামান জনবলের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ বিল, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, জ¦ালানী তেল ও অফিস পরিচালন ব্যয় নির্বাহ করে রাজস্ব খাতের অর্থ দিয়ে কোন উন্নয়ন মূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স প্রতি ৩০০/- টাকা আয়কর ও ১৫% ভ্যাট আরোপ করেছে। হাট-বাজার, বাস-টার্মিনাল সহ সকল ইজারা মূল্যের উপর ১৫% ভ্যাট ও ৫% আয়কর দিতে হচ্ছে। পানি সংযোগ, অযান্ত্রিক যানবাহন লাইসেন্সসহ সকল সেবা  খাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভ্যাট ও আয়কর আরোপ করেছে। তাহলে স্থানীয় সরকার কিভাবে শক্তিশালী হবে এবং নাগরিক সুবিধা কিভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। আমি আপনাদের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তথা সরকারের কাছে পৌরসভার সেবা খাত সমূহের উপর আরোপিত ভ্যাট ও আয়কর প্রত্যাহার এবং কর্মকর্তা- কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সরকারের রাজস্ব বাজেট থেকে প্রদানের জোর দাবী জানাচ্ছি।

 

প্রিয় সূধীবৃন্দ ও সম্মানীত সাংবাদিকবৃন্দঃ

        পৌরসভার কিছু অত্যাবশ্যকীয় ব্যয় রয়েছে। পৌরসভার পরিচালন ও নাগরিক সেবা খাতে বিধি সম্মত এই ব্যয়গুলি হয়ে থাকে। যেমনঃ-

                   ক) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা।

খ) অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা।

                   গ) সড়ক বাতি ও পানি সরবরাহের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ।

                   ঘ) পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বেতন-ভাতা।

                   ঙ) গার্ভেজ ট্রাকের জ¦ালানী তেল।

                   চ) অফিস পরিচালনা ব্যয়।

                   ছ) পরিচ্ছন্নতা কাজের মালামাল ক্রয়।

                   জ) পৌর মডেল স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালন ব্যয়।

                   ঝ) নিজস্ব অর্থায়নে পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ।

                   ঞ) মেয়র-কাউন্সিলরগণের সম্মানী ভাতা ইত্যাদি।

চ) দরিদ্র মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের শিক্ষা উপকরণ এবং শিক্ষা সহায়তা প্রদান। 

বর্তমান পৌর পরিষদ দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে অবহেলিত ঝিনাইদহ পৌরসভাকে পরিকল্পিতভাবে সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে। নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ তহবিলে ছিল না এবং সরকারী অনুদানও ছিল অপ্রতুল। তাই আমি বিশ্বব্যাংক, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক, বিল মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন সহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগি সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে ২০১১-২০১২ থেকে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছর পর্যন্ত বাস্তবায়িত পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন আপনাদের সদয় অবগতির জন্য উপস্থাপন করছি ঃ-

 

ক্র:নং তহবিলের উৎস ব্যয়িত অর্থ

০১ উন্নয়ন সহায়ক তহবিল ১২,৯৩,০০,০০০/-

০২ রাজস্ব তহবিল ২৫,৪৯,৫০,৬৫০/-

০৩ জেলা শহর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ২,৪৬,৫১,৪১৮/-

০৪ দ্বিতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্র্রকল্প (টএওওচ-ওও) ৩২,৯১,১৯,৮০৭/-

০৫ তৃতীয় নগর পরিচালন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প(ডরহফড়-িই) এর আওতায় ১২,০৪,৭৯,৪১৪/-

০৬ মাঝারী শহর পানি সরবরাহ ও পানি নিস্কাশন প্রকল্প ১৬,৭৪,৮৩,৯৭৬/-

০৭ বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (বিএমডি এফ) ৬,০৩,৫৫,৮০১/-

০৮ এসএনভি নেদারল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন ২,০৪,০০,০০০/-

০৯ গুরুত্বপূর্ণ শহর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ২,৮০,০০,০০০/-

১০ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাষ্ট ফান্ডের আওতায় সৌর সড়কবাতি উন্নয়ন প্রকল্প ৪৯,৭৯,০০০/-

সর্বমোটঃ- ১১৩,৯৭,২০,০৬৬/-

 

উন্নয়নের সার সংক্ষেপ

 

মোট বাস্তবায়িত প্রকল্পের সংখ্যা=৬৭৬টি। ব্যয়িত অর্থের পরিমান=১১৩,৯৭,২০,০৬৬/-টাকা মাত্র।  

 

   প্রকল্পের ধরন ঃ- 

ড্রেন, কংক্রিট রাস্তা, ডবিøউ বিএম রাস্তা, কার্পেটিং রাস্তা, বিউটিফিকেশন,হাট-বাজারের উন্নয়ন,সুপারমার্কেট নির্মাণ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য নির্মাণ, আরাপপুর ঝিনুক চত্বর নির্মাণ, মানববর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ  ও শহরে সৌর সড়কবাতি স্থাপন ইত্যাদি ইতিমধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে।

১। মাঝারি শহরে পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় পৌর নাগরিকদের সুপেয় পানি সক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ০৬টি পাম্প ও পাম্প হাউজ নির্মাণ এবং ৫০ কিলোমিটার পানির লাইন সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সম্প্রতি আর দুইটি পাম্প ও পাম্প হাউজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। 

 

২। দ্বিতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ প্রকল্পের আওতায় পৌর এলাকায় অবস্থিত ০৮ টি বস্তিতে ১,৯১,৪৫,৭০১/- ব্যয়ে ১২৯২ মিটার ফুটপাত, ১৪৮ মিটার ড্রেন, ১৮৪ টি ল্যাটিন ও ৭৩ টি নলকুপ স্থাপন করা হয়েছে। 

 

৩। রাজস্ব তহবিলের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্বেও ২০১১-২০১২ অর্থ বছর থেকে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছর পর্যন্ত ১১৩,৯৭,২০,০৬৬/- ব্যয়ে ছোট বড় ৬৭৬ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্প গুলির মধ্যে রয়েছে ড্রেন, কংক্রিট রাস্তা, ডবিøউ বিএম রাস্তা, কার্পেটিং রাস্তা, বিউটিফিকেশন,হাট-বাজারের উন্নয়ন,সুপারমার্কেট নির্মাণ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য নির্মাণ, আরাপপুর ঝিনুক চত্বর নির্মাণ, মানববর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ  ও শহরে সৌর সড়ক বাতি স্থাপন ইত্যাদি।

 

৪। পৌরসভার হাটে পৌর নাগরিকদের সুবিধার্থে একটি আধুনিক কসাই খানা নির্মাণ করা হয়েছে।এছাড়াও মাছের বাজার,মাংস বাজার, কাঁচা বাজার,পোল্ট্রি বাজার ও কিচেন মার্কেটে পরিকল্পিত ভাবে সেড নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের রোদ-বৃষ্টিতে পূর্বের মত কোন সমস্যার সম্মুখিন হতে হয় না।                            

                                

                                      

সম্মানিত অতিথিবৃন্দ

    

  নাগরিক সেবায় ইনোভেশন বা উদ্ভাবন প্রকল্প বর্তমান সরকারের নাগরিক বান্ধব একটি বিশেষ কর্মসূচী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধিন এ্যাকসেস টু ইনফরমেশন বা এটুআই প্রোগ্রাম, এ কর্মসূচীর নেতৃত্ব দিচ্ছে। জনভোগান্তি দুর করে স্বল্প সময়ে স্বল্প ব্যয়ে দ্রুত ও উন্নত নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণই এ প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য।

 

       ঝিনাইদহ পৌরসভা এ ক্ষেত্রে এটুআই এর অনুপ্রেরনায় সর্বপ্রথম অনলাইন বিলিং সিস্টেম প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে। আপনারা পৌরসভার সকল বিলের তথ্য এখন এসএমএস এর মাধ্যমে জানতে পারছেন এবং অনলাইনে পরিশোধ কবার সুযোগ পাচ্ছেন। এক্ষেত্রে সারা বাংলাদেশের পৌরসভা সমূহের মধ্যে ঝিনাইদহ পৌরসভা ইনোভেশন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে “সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড” এর অর্থায়নে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে। 

সম্মানিত পৌর নাগরিকবৃন্দ আপনারা জেনে খুশি হবেন যে, সারা বাংলাদেশ থেকে ১০টি পৌরসভা ডিটিটাল সার্ভিস ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট এর আওতায় অর্ন্তভ‚ক্ত হয়েছে। তার মধ্যে ঝিনাইদহ পৌরসভা অন্যতম। প্রকল্পের আওতায় চলতি বছরেই পৌরবাসী নাগরিক সুবিধা ভোগ করবে।

 

       আমাদের দ্বিতীয় ইনোভেটিভ প্রকল্প হলো বিল এন্ড মেলিন্ডা গেইটস ফাউন্ডেশন এর অর্থায়নে এসএনভি নেদারল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত ভ্যাকুটাগ সংগ্রহ ও মানববর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ। সর্ম্পূণ যান্ত্রিক সিস্টেমে আপনাদের বাসা-বাড়ীর সেপ্টিক ট্যাংক থেকে মানববর্জ্য সংগ্রহ করে নগরবাথান পৌর ট্রিটমেন্ট প্লান্টে পরিশোধন করা হচ্ছে। ফলে জীব বৈচিত্র ও পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার আশংকা দূর হয়েছে। এতে আমাদের প্রিয় নবগঙ্গা নদী নবজীবন লাভ করবে। এই(০২)দুইটি প্রকল্প গত ১৯/০৩/২০১৭ খ্রিঃ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহমেদ পলক আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করেছেন।

 

       ইতিমধ্যে প্রকল্পটি পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা (এফএসএম) নামে নামকরণ করা হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রকল্পটির প্রাতিষ্ঠানিক আইনি কাঠামো প্রস্থত করেছেন, যেখানে ঝিনাইদহ পৌরসভা একটি মডেল।

 

        প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় ঝিনাইদহ পৌরসভা কর্তৃক পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থপনা প্রকল্পটি প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশীপ পদ্বতিতে পৌরসভা ও এইড ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে যৌথভাবে পরিচালিত হচ্ছে। যার সুফল পৌরবাসী ইতিমধ্যে পেতে শুরু করেছে। বর্তমানে এই খাতে পৌরসভার পরিচালন ব্যয় হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে সেবার মান বৃন্ধি পেয়েছে। নগরবাসীর সেবাপ্রাপ্তির ব্যয় একই আছে। 

   

প্রিয় সূধী ও সাংবাদিক ভাইয়েরা

             

আগামী ২০১৯-২০অর্থ বছরে বাস্তবায়নযোগ্য উল্লেখযোগ্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছেঃ-

 

ক্র:নং তহবিলের উৎস ব্যয়িত অর্থ

০১ বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড(বিএমডিএফ)এর আওতায় পৌর ভবনের পাশের্^ বহুতল বিশিষ্ট পৌর সুপার মার্কেট নির্মাণ। ৪০,০০,০০,০০০/-

০২ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাষ্ট ফান্ডের আওতায় সৌর সড়কবাতি উন্নয়ন প্রকল্প ১৫,০০,০০,০০০/-

০৩ গুরুত্বপূর্ণ শহর অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প ১৪,০০,০০,০০০/-

০৪ এসএনভি নেদারল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন ১,০০,০০,০০০/-

০৫ তৃতীয় নগর পরিচালন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ডরহফড়-ি(ই+ওঠ) এর আওতায় ৩৭,০০,০০,০০০/-

০৬ উন্নয়ন সহায়ক তহবিল ৯,৫৫,০০,০০০/-

০৭ রাজস্ব তহবিল ৩,৬৬,০০,০০০/-

০৮ ব্র্যাক আরবান ডেভেলপমেন্ট শীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্প ২,৬০,০০,০০০/-

সর্বমোটঃ- ১২২,৮১,০০,০০০/

 

উন্নয়নের সার সংক্ষেপ

  প্রকল্পের ধরন ঃ-

 

ড্রেন, কংক্রিট রাস্তা, ডবিøউ বিএম রাস্তা, কার্পেটিং রাস্তা, বিউটিফিকেশন, হাট-বাজারের উন্নয়ন, সুপারমার্কেট নির্মাণ, মানববর্জ্য শোধনাগার এর বর্ধিতাংশ ও শহরে সৌর সড়কবাতি স্থাপন ইত্যাদি।

 

২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার আশ^াস এর প্রেক্ষিতে কিছু বিশেষ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। আপনাদের সদয় অবগতির জন্য প্রকল্পের সার সংক্ষেপ এখানে উপস্থাপন করছি ঃ-

 

১।বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (বিএমডিএফ) প্রকল্পের আওতায় পৌরসভার অফিস ভবন সংলগ্ন পশ্চিম পার্শের খালি জায়গায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুতল বিশিষ্ট বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। যার বাস্তবায়ন কাজ ২০১৯-২০ অর্থ বছরের মধ্যেই সমাপ্ত করা হবে। এছাড়াও পৌরসভার ০৯টি ওয়ার্ডে আরসিসি ড্রেন নির্মাণ ও সড়ক উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

 

২। তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতিকরন প্রকল্প (ইউজিআইআইপি-৩) প্রকল্পের অর্থায়নে নবগঙ্গা নদীর পাড়ে ঘাটলার নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এবং বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে নদীর তীর সংরক্ষণ করা হবে। এ প্রকল্পে আগামী ২০১৯-২০ অর্থ বছরের মধ্যে ৩৭ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

 

৩। এসএনভি নেদারল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্মতি ১ কোটি টাকা ব্যয়ে বাসটার্মিনালে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, গণশৌচাগার নির্মাণ ও মানববর্জ্য শোধনাগার এর কার্য্যক্রম আরও সম্প্রসারন করা  হবে।

 

৪।গুরুত্বপূর্ণ শহর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়) এর আওতায় ৩(তিন) বছরে ১৪ কোটি টাকার মধ্যে ৫ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শেষের পথে এবং অবশিষ্ট ৯ কোটি টাকার কার্য্যক্রম অচিরেই শুরু করা হবে।

 

৫। জলবায়ু ট্রাষ্ট ফান্ডের আওতায় ১৫ কোটি টাকার মধ্যে এক কোটি টাকা ব্যয়ে সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ শুরু করা হইয়াছে। বাকী টাকার কাজ চলতি বছরেই শুরু হবে।

৬। বিল এন্ড মিলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে টঈখএ (ইউনাইটেড, সিটিজ, লোকাল, গভর্নমেন্ট) এর আওতায় ১৫ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ দ্রæত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে। আর একটি ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ঋঝঞ) নির্মানের পরিকল্পনা আছে।

 

৭। উন্নয়ন ও রাজস্ব তহবিলের আওতায় শহরের বিভিন্ন শুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সোলার বাতি স্থাপন অব্যাহত থাকবে।

৮। ব্র্যাক আরবান ডেভেলপমেন্ট ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে ২.৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে পৌরসভার হতদরিদ্র মানুষের জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজে ব্যয় করা হবে।

 

                   ঘোষিত বাজেটের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্টসমূহঃ-

 

১। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে পৌর বাসীর উপর নতুন কোন কর আরোপ না করে বিগত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের পৌর কর বহাল রাখা হয়েছে। ঘোষিত বাজেটে নাগরিক সেবা বৃদ্ধি ও উন্নয়ন মূলক কাজকে অগ্রাধিকার ২০১৮- ১৯ দেয়া হয়েছে। পৌর নাগরিকদের উপর এই বছরের অতিরিক্ত কোন কর আরোপ করা হবে না। সনাক ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে প্রতিটি ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে সরাসরি জনগনের সাথে আলাপ-আলোচনা করিয়া গৃহ কর ধার্য করা হবে। নিয়মিত অন্তবর্তীকালীন কর ধার্য,বকেয়া পৌর কর আদায় ও কর বহির্ভূত রাজস্ব দাবীর ভিত্তিতে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

 

২। শিক্ষা,স্বাস্থ্য,ক্রীড়া-সাংস্কৃতি ও সমাজের কল্যাণমূলক খাতে রাজস্ব বাজেটের আওতায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দরিদ্র নারীদের উন্নয়ন,দরিদ্র মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের সহযোগিতা প্রদান ও পৌর মডেল স্কুল এন্ড কলেজের উন্নয়নে শিক্ষা খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

 

৩। ঝিনাইদহ পৌরসভার নিজস্ব ওয়েবসাইট খোলা হয়েছে। বর্তমান গনতান্ত্রিক সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে ঝিনাইদহ পৌরসভার সকল তথ্য ও সেবা কার্য্যক্রম অনলাইনে পাওয়া যাবে।

 

৪। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অনিয়ম প্রতিরোধের লক্ষ্যে পৌরসভার সকল লেনদেন কম্পিউটারাইজড করা হয়েছে। ফলে একজন নাগরিক যে কোন সেবা মূল্য সরাসরি ব্যাংকে পরিশোধ করতে পারেন।

 

৫। সম্প্রতি ঝিনাইদহ পৌরসভার দারিদ্র কমিউনিটিতে ব্র্যাক আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম নামে একটি কর্মসূচী চালু করা হয়েছে। উক্ত কর্মসূচীর আওতায় ঝিনাইদহ পৌরসভা ও ব্র্যাক যৌথ ভাবে কমিউনিটিতে বিভিন্ন প্রকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, ব্যবসায়িক দ্রব্য বিতরণ,কমিউনিটি রাস্তা নির্মাণ,ড্রেন নির্মাণ,তাদের জীবন মানের উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহণ। চলতি বৎসরে কমিউনিটির মানুষের ডিজিটাল সুবিধা প্রদানের লক্ষে বিভিন্ন কার্য্যক্রম গ্রহন করা হবে।  

 

৬। ঝিনাইদহ পৌরসভার সকল কর্মচারীদের পেনশনের আওতায় নিয়ে আসার নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে যে সকল কর্মচারী অবসরে যাবে তাদের এবং তাদের স্ত্রী-সন্তানদের কে একটি নিদিষ্ট নিয়মে পেনশন দেওয়া হবে। যা বাংলাদেশের পৌরসভা ইতিহাসে প্রথম এবং ঝিনাইদহ পৌরসভা একমাত্র পৌরসভা যে, পৌরসভা সকল কর্মচারীদের সরকারী সকল সুযোগ-সুবিধা,বেতন-ভাতাসহ পেনশন দেওয়া হচ্ছে বলে আমি ব্যক্তিগত ভাবে বিশ^াস করি এবং যা সম্ভব হয়েছে ঝিনাইদহ পৌরসভার সকল কাউন্সিলর এবং কর্মচারীদের সহযোগিতার মাধ্যমে।

 

      পৌরসভা একটি নাগরিক কল্যাণমূলক স্বায়ত্বশাসিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। পৌর নাগরিকদের ট্যাক্স,সরকার প্রদত্ত অনুদান ও উন্নয়ন সহযোগি দেশ সমূহের নিকট থেকে প্রাপ্ত অর্থ দ্বারা এ প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়। আমাদের সম্পদের সীমাবন্ধতা রয়েছে। সরকারী উন্নয়ন সহযোগিতা ক্রমাগতভাবে হ্রাস পাচ্ছে। পক্ষান্তরে নাগরিক সুবিধা প্রদান ও উন্নয়ন মূলক কাজের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। আয় ও ব্যয়ের সমন্বয় ঘটিয়ে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের জন্য একটি সুষম বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করা হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়নে সম্মনীত পৌর নাগরিক-সুধীবৃন্দ ও সাংবাদিকবৃন্দের মূল্যবান পরামর্শ প্রত্যাশা করছি। আমরা সকলে যৌথ প্রচেষ্টায় ঝিনাইদহকে মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত উন্নয়ন সমৃদ্ধ বাংলাদেশের একটি মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ।

 

      পরিশেষে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে ২০১৯-২০অর্থ বছরের বাজেট প্রণয়নে ভূমিকা রাখায় পৌরসভার সংস্থাপন ও অর্থ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম মধু সহ সকল সদস্য,পৌর সচিব মোঃ মুস্তাক আহমেদসহ সকল কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যারা মূল্যবান সময় নষ্ট করে আমাদের এ বাজেট অধিবেশনে অংশ গ্রহণ করেছেন তাদের নিকট আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

 

 

 

 

                                                                             (সাইদুল করিম মিন্টু)

                                                                                     মেয়র 

                                                                              ঝিনাইদহ পৌরসভা






তথ্যআইন © ঝিনাইদহ পৌরসভা

বাস্তবায়ন: মিলেনিয়াম সিস্টেমস্ সলিউশন লি.